রাজাপুরে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন

খলিলুর রহমান,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
 ঝালকাঠির রাজাপুরে ছোট ছোট নদীতে বিষ প্রয়োগ করে ডিমওয়ালা চিংড়ি মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে। একটি অসাধু চক্র গভীর রাতে উপজেলার ধানসিড়ি,পোনা,জাঙ্গালিয়া  নদী ও পাড়ের খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে বিভিন্ন হাট- বাজারে মাছ বিক্রেতাদের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সোমবার রাতে উপজেলার ঐসকল  নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করা হয়। বিষ প্রয়োগের কারনে চিংড়িসহ দেশীয় মাছগুলো নদী ও খালের পাড়ে ভেসে উঠে। সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকালে এ প্রতিবেদক রাজাপুর উপজেলা সদরের বাজারে গিয়ে প্রচুর ডিমওয়ালা বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ বিক্রি করতে দেখেন। মাছ বিক্রেতাদের কাছে মাছগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা জানান,বিভিন্ন গ্রাম থেকে তারা ক্রয় করে এনে বাজারে বিক্রি করছেন।তবে কারো নাম তারা  প্রকাশ করেনি।
বিলুপ্ত প্রায় মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে,চিংড়ি,পুটি,বেইদা,পাবদা,বাইলা,টেংড়া,শিং,কৈ,মাগুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। উপজেলার সদরের মোঃ তৌহীদুল ইসলাম জানান,শুধু এ মৌসুমে নয় সারা বছরই একইভাবে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হচ্ছে। যার ফলে দেশীয় মাছ দিনে দিনে বিলুপ্তি হতে চলছে। অন্য দিকে নদীর পানিতে বিষ প্রয়োগ করায় পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং এই পানি ব্যাবহার করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ এর প্রতিরোধের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। মৎস্য অফিস সূত্র জানায়,রাতের আধারে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে দেশীয় মাছ নিধনের সংবাদ আমরা পেয়েছি কিন্তু মাছ নিধন কালে কাউকে সনাক্ত করা যাচ্ছেনা। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রমনী কুমার মিস্ত্রী জানান,এভাবে মাছ নিধন করা হলে এক সময় বিলুপ্তি হয়ে যেতে পারে দেশীয় সকল প্রজাতির মাছ। তিনি আরো জানান,ভারতের তৈরি একধরনের বিষমিশ্রিত ট্যাবলেট ও বোতল ভর্তি তরল বিষ প্রয়োগ করে ঐ অসাধু চক্রটি মাছ নিধন করছে। এ মাছ গুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য কঠিন আইন প্রয়োগ করা দরকার বলে তিনি জানান।

No comments

Powered by Blogger.