বরিশালে গণজোয়ারে ভাসছে সাদিকের নৌকা

খোকন হাওলাদার, বার্তা ডেস্কঃ-
 রাত পোহালেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ইতোমধ্যে নগরীর ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাকে বসাবেন নগর পিতার আসনে। এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ঘুরে।

বরিশালবাসীর কাছের মানুষ, তাদের ভরসার ঠিকানা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে ভোটের মাধ্যমে চতুর্থ পরিষদের মেয়রের আসনে বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সর্বস্তরের ভোটাররা। অল্পসময়ে বরিশালের রাজনীতিতে একচ্ছত্র হয়ে উঠছেন সাদিক আব্দুল্লাহ। নিজের কর্মগুনে তিনি সাধারণ ভোটারদের মনে শক্ত স্থান করে নিয়েছেন। সাদিকের পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পর এখন তিনিই (সাদিক) বরিশালের আলোচিত নেতা। তাকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন দেখছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ। তরুণ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ যেভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তাতে বলাই যায়, বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। আর এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের কার্যক্রম দেখে সাদিক আব্দুল্লাহকে নগর পিতার আসনে বসাতে সর্বত্র গণজোয়ার উঠেছে। নগরীর সাধারণ ভোটারদের মতে, উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাদিক আব্দুল্লাহর ফুফু। তাকে (সাদিক) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত করা হলে বরিশালবাসী উন্নয়নের জোয়ার দেখবে। আর উন্নয়নের জোয়ার দেখার জন্যই সাদিক আব্দুল্লাহকে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর পিতার আসনে বসাতে চাচ্ছেন নগরবাসী।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও চারবারের সংসদ সদস্য বর্তমানে সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। তার প্রধান প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ বয়সে তরুন ও নির্বাচনের মাঠেও নতুন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন, সাদিক আব্দুল্লাহর তারুন্য আর বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অভিজ্ঞা; মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সরোয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সাদিক আব্দুল্লাহ।

বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০। ভোট কেন্দ্র ১২৩টি ও ভোট কক্ষ ৭৫০টি। এরমধ্যে ১১২টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সিটিতে মোট মেয়র প্রার্থী ছয়জন।

প্রচারণায় মেয়র প্রার্থীদের সহধর্মিণীরা ॥ প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর সহধর্মিণী লিপি আব্দুল্লাহ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সহধর্মিণী নাছিমা সরোয়ার। পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে অনেকের সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রচারণার মাঠে ভোট চাইতে প্রার্থীর পক্ষে নেমেছেন। প্রচারণার মাঝামাঝি সময় থেকে মাঠে ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সহধর্মিণী নাছিমা সরোয়ার। তিনি তার স্বামীর পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়িয়েছেন গোটা নগরীতে। তার সাথে ছাত্রদল ও মহিলাদলের নারী নেত্রীরা ছিলেন সহায়ক হিসেবে। আর এ ভোট চাইতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে এসেছেন আলোচনায়। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু মজিবর রহমান সরোয়ারের সহধর্মিণীই নয় তার পুত্র নাফিস সরোয়ারও ছিলেন প্রচারণার মাঠে। কখনও বাবার সাথে আবার কখনও মায়ের সাথে সে প্রচারনা করেছেন। অপরদিকে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আব্দুল্লাহ শেষ সময়ে হলেও গত কয়েকদিন ধরে নগরীর অলি-গলি চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের কাছে গিয়ে স্বামী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জন্য ভোট চাচ্ছেন। তার সাথে নারী নেত্রীদের পাশাপাশি জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মনির হোসেন ও প্রার্থীর বংশীয় ভাই ছাত্রলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাদিক আব্দুল্লাহর গর্ভধারিনী মা শাহনারা বেগম, ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ শুরু থেকেই প্রচারনায় নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। বিশেষ করে কলোনীর বর্ধিত এলাকায় তাদের পদার্পণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে জাতীয়পার্টির (জাপা) মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের সহধর্মিণী ইসমাত আরা ইকবালও প্রথম থেকেই চষে বেড়িয়েছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকা। নারী ভোটার শাকিলা ইসলাম বলেন, প্রার্থীদের সহধর্মিণীদের মাঠে নেমে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পরবে। কারণ প্রার্থীর চেয়েও তাদের স্ত্রীরা বেশ কাছে যেতে পেরেছেন নারী ভোটারদের।
নাশকতার আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ ॥ সিটি নির্বাচনে সিলেটের মতো বিএনপির সন্ত্রাসীরা বরিশালেও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দরা বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের নয়টি অভিযোগ দেয়া হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ইতিপূর্বে সিটি মেয়র, এমপি এবং হুইপ ছিলেন। তিনি এমন কোন উন্নয়ন দেখাতে পারবেন না, যার কারণে জনগণ তাকে ভোট দেবেন। বরং সিটি মেয়র থাকাকালীন সময় বরিশালের মানুষ তাকে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ হিসেবেই জানতো। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে এনালগ যুগের মানুষ মজিবর রহমান সরোয়ার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী খান পান্না।

বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে বরিশালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বলেন, তাদের কর্মীরা নৌকার পোস্টার ছিঁড়েছে, প্রকাশ্য মিছিল করেছে, শো-ডাউন করেছে। উঠান বৈঠকের নামে প্রকাশ্যে জনসভা করেছে সরকারী অফিসের সামনে এবং জনগণের চলাচল বিগ্ন করে রাস্তার পাশে নির্বাচনী অফিস করেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস একটি সংবাদ সম্মেলন করে সেখানে তিনি চরম মিথ্যাচার করেছেন। এ ধরনের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। তিনি বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়েছে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
বিএনপি নেতার অভিযোগ ॥ বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান বলেছেন, বরিশালে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে চাইছে। শনিবার নগরীর হাসপাতাল রোড এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন যাবত তাদের গণসংযোগে বাঁধা দিচ্ছে পুলিশ। একইসাথে গণসংযোগকালে বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুজন’র পদযাত্রা ॥ ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের নির্বাচন অবাধ, নিরপক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সৎ, যোগ্য জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের সর্বস্তরের ভোটাররা যাতে নির্বাচিত করেন সেই আহবানে শনিবার বেলা এগারোটায় নগরীতে মানববন্ধন ও শান্তি পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র জেলা ও মহানগর কমিটির আয়োজনে নগরীর প্রানকেন্দ্র সদররোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মোবাইল ম্যাসেজে ভোট প্রার্থনা ॥ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। সামাজিক যোগাযোগের অন্যমত মাধ্যম মোবাইল ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে ভোট চাইছেন তারা। ডিজিটাল প্রচারণা পিছিয়ে রয়েছে অন্য চার মেয়র প্রার্থী। ভোটারদের মোবাইলে পাঠানো নৌকা মার্কর মেয়র প্রার্থীর ম্যাসেজটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘পিছু ফিরে তাকানোর দিন শেষ। এবার সমৃদ্ধির পথ ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আসুন আপনি, আমি এবং আমরা সবাই মিলে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে গড়ে তুলি সমৃদ্ধির বরিশাল’। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে পাঠানো মোবাইল বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ‘মেয়র পদে এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিন’। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নিজের মতো করে ওয়ার্ডের ভোটারদের মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে নিজেদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেছেন।

বিএনপির প্রচার গাড়িতে হামলার অভিযোগ ॥ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা প্রচার কাজে নিয়োজিত দুই কর্মীকে মারধর করে প্রচার মাইক ও একটি অটোরিকসা ভাঙচুর করেছে। বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন প্রচারণা উপ-কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট আকতার হোসেন মেবুল অভিযোগ করেন, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা ব্রিজ এলাকায় ধানের শীষ মার্কার প্রচারণার প্রাক্কালে নৌকা প্রতীকের ২০/২৫জন সমর্থক একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। কোতোয়ালী মডেল থানার এএসআই রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত নয়। তাছাড়া কেউ তাদের কোন কিছু অবহিতও করেননি।
আবাসিক হোটেলে রেড অ্যালার্ট ॥ ৩০ জুলাইর সিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে শুক্রবার রাতে নগরীর সকল আবাসিক হোটেলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে বোর্ডার বের করে দিয়েছে পুলিশ। এমতাবস্থায় বলা চলে আবাসিক হোটেলগুলোতে একধরনের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাক্ষরিত এক নোটিশে উল্লেখ করা হয়. আগামী ২৯ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩০ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় লঞ্চ, স্পিডবোট, ইঞ্জিনচালিত যেকোনো ধরনের নৌযান এবং ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, টেম্পো, বেবী ট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও নসিমন, করিমন, ভটভটি, টমটমসহ সবধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জুলাই রাত ১২টা থেকে ৩১ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এদিকে কর্মজীবী ও নিয়মিত বসবাসকারীরা ব্যতীত নির্বাচনী এলাকায় অন্য কেউ যাতে না থাকতে পারে সেজন্য নগরজুড়ে ব্যাপক মাইকিং করা হয়েছে।

১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ॥ সিটি কর্পোরেশেন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চারশ’ সদস্যর ১৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। শনিবার সকাল থেকে বিজিবি’র সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পাশাপাশি র্যাব-পুলিশের সদস্যরাও তাদের টহল অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান। এছাড়াও নয়জন বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) হাকিম ও ৫৪জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। চার প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে, তারা বিশেষ প্রয়োজনে বের হবেন। র্যাব-৮ এর উপ-পরিচালক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স জানান, তাদের প্রায় তিনশ’ সদস্য নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করবেন। এরমধ্যে ৩০টি টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং চারটি টিম রিজার্ভ রাখা হবে। এরইমধ্যে র্যাবের টহল নগরজুড়ে অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি নগরীর প্রবেশদ্বারে তিনটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে পুলিশের দুই হাজারের ওপর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মোট সদস্যের মধ্যে দুই হাজার ১৩ জন পুলিশ ও ১৫৬ জন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও আনসারের দুই হাজার ১৫৯ সদস্য কাজ করবেন। এদের মধ্যে ৪৩৭ জন ব্যাটালিয়ান আনসার রয়েছে।

জাপা থেকে মেয়র প্রার্থী তাপস বহিঃস্কার ॥ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসকে দল থেকে বহিঃস্কার করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে নৌকার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে সমর্থন না দিয়ে নিজেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতায় অনড় থাকায় তাপসকে বহিঃস্কার করা হয়। দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া ও পার্টির শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ইকবাল হোসেন তাপসকে জাতীয় পার্টির সব পদ ও পদবী থেকে বহিঃস্কার করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.