বরিশালে আশুরিক শক্তির আবির্ভাব হয়েছে : মির্জা আব্বাস

খোকন হাওলাদার, বার্তা ডেস্কঃ-
 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস বলেছেন, বরিশালের সুষ্ঠু-সুন্দর, স্বাভাবিক-পরিচ্ছন্ন পরিবেশটা কেমনভাবে যেন উধাও হয়ে গেছে। আশ্চর্য লাগছে কয়েকদিনেরে ব্যবধানে একটা শহরের নির্বাচনের পরিবেশ এভাবে কিভাবে নষ্ট হয়। আগেও নির্বাচন হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে কিন্তু বরিশালে কেমন একটা অন্য ধরণের ভাব হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এই বরিশাল শহরে কোন একটা আশুরিক শক্তির আবির্ভাব হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরের সদররোডের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে বরিশাল সিটি করপোরশেন নির্বাচনে ধানের শীষের সমর্থনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় মীর্জা আব্বাস আরো বলেন, নির্বাচন একেবারেই সুন্দর হবে তা আমরা কখনোই ভাবিনা। নির্বাচন হবে প্রতিযোগীতা মূলক, প্রতিদ্বন্দিতামূলক।

তিনি বলেন, বরিশালে একটি সম্প্রদায়ের কাছে আজ উৎসবের পরিবেশ রয়েছে, সেটি হচ্ছে আওয়ামীলীগ সম্প্রদায়ের। তাদের উৎসবের জন্য অন্য কারো ক্ষতি হোক বা হচ্ছে এটা তারা ভাবছে না।

তিনি বলেনম আপনারা বলতে পারেন আমরা কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু দিবো কিভাবে যাদের দিবো তাদের তো জেলে পুরে দিবে। এখন তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, তাদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, বাড়িতে থাকতে পারছে না। আর যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের প্রথমে টাকা পয়সার লোভ দেখানো হয়েছে, পরে জোরজবস্তি, রিজিকের ওপরে হাত দেয়া হয়েছে, সর্বোশেষ এখন পুলিশী হয়রানি করা হচ্ছে। এজন্য আমাদের অনেক প্রার্থী প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন নয়তো লুকিয়ে আছেন।

কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলে সহ-সভাপতি চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আবার সেই মামলায় অজ্ঞাত ১০ জন রাখা হয়েছে। মামলা হলে আসামী তো হবেই তবে নামধারী হলে তো একটা বিষয় ছিলো, এখন অজ্ঞাত হওয়ায় কর্মীরা সবাই আতঙ্কে আছেন, কাকে কখন ধরে। আবার কিছুক্ষন আগে নগরের কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় লিফলেট বিতরন করার সময় পুলিশ কর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছে। গতকাল বিকেলে একটা পথসভা করছিলাম, দুজন পুলিশ এসে বললো করতে পারবো না। কেন পারবো না জানতে চাইলে উত্তর দিলেন না। আমরা কি কোন পরাধিন দেশে বাস করি, যে কথা বলতে পারবো না। ১৯৭১ সালের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কোন ব্যক্তি বিশেষের কাছে আমরা বিকিয়ে দেবো না।

তিনি বলেন, গতরাত থেকে বরিশালে একটা ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। একটা আশরিক শক্তি নির্বাচনী পরিবেশটা ভৌতিক অবস্থায় পরিনতো করেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আশা করেছিলাম একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে। কিন্তু ওনাদের কথা ঠিক নেই, এখন নির্বাচন কমিশন কম্পেলেইন ও নিতে চায় না।

আওয়ামীলীগ গাড়িতে সস্টীকার লাগাচ্ছে, ঠেলাগাড়িতে করে নৌকা নিয়ে যাচ্ছে, নৌকার গেট সাজানো হচ্ছে, নৌকা বানিয়ে আলোকসজ্জা করেছে। তারা আচরন বিধি মানছে না। কিন্তু তাদের কিছু হচ্ছে না। বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান পৌরমেয়ররা অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন বাসায় অবস্থান করছে। এর বড় প্রমান কিছুদিন আগে লঞ্চঘাটে অস্ত্র নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে এখনো অস্ত্রের মহড়া ঘটছে।

তিনি বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন এর বর্ডার এলাকায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বহিরাগত প্রচুর লোক নিয়ে আসা হয়েছে। যে লোকগুলো নির্বাচনের দিন দেখাবে ভোটার আছে ভোটকেন্দ্রে, নয়তো কোন ঝামেলা করবে।আমি আশা করি ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন তাদের বের করে দিবে নয়তো গ্রেফতার করবে।

আমাকে হোটেল থেকে নেমে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমাদের যদি চলে যেতে হয়, তবে যেন ভোটারবিহীন বহিরাগত সবার বেলায় এ আইন কার্যকর হয়।

সবশেষে তিনি বলেন, আওয়ামী অত্যাচারকে পরাস্থ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অটুট মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে কাজ করে যাবে। বরিশালে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে, কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে। গ্রেফতারিটা আমি মনে করি বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য খুশির সংবাদ। কারন আওয়ামীলীগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের এতোটাই ভয় পেয়েছে, যে বিএনপির লোক বাহিরে থাকলে তারা নির্বাচনে কারচুপি করতে পারবে না।

সংবাদ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোঃ মজিবর রহমান সরওয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভাইসে চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান আক্তার শিরিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।

No comments

Powered by Blogger.