গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

খোকন হাওলাদার, বার্তা ডেস্কঃ- 
অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দকৃত গৃহ নির্মাণে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ শেষ হতে না হতেই ইতোমধ্যে একটি গৃহের দেয়াল ধ্বসে পরেছে। এনিয়ে সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার।

উপজেলার কুড়িরচর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন জানান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে তার নামে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি মাদারীপুর জেলার মেসার্স দবির এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পায়।

তিনি আরও জানান, ঠিকাদার কাজের শুরু থেকেই নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে আসছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। বিল্বগ্রাম এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন জানান, তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর রশিদের নামে বরাদ্দকৃত ঘরটি একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ না হতেই গত দু’দিন পূর্বে দেয়াল ধ্বসে পরেছে।

গৌরনদী উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলার ন্যায় গৌরনদী উপজেলার ১৩ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে একতলা দালান, আলাদা বাথরুম, টিউবওয়েল স্থাপন ও গরু, হাঁস, মুরগী পালনের সেড নির্মানের জন্য প্রতিটি ঘরের অনুকূলে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৫ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী চলতি বছরে দরপত্র আহবান করা হয়।
গৌরনদী উপজেলার ১৩টি ঘর নির্মানের মধ্যে সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পায় মেসার্স দবির এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং অপর ছয়টি প্রকল্পের কাজ পান গৌরনদী উপজেলার মাহবুব তালুকদারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলা এলজিইডি অফিস থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অনুকূলে কার্যাদেশ দিয়ে ২৫ জুন প্রকল্প শেষ করার পত্র দেয়া হলেও কোন প্রকল্প শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের অনুকূলে চূড়ান্ত বিল বরিশাল এলজিইডি অফিস উত্তোলণ করে রেখেছে।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স দবির এন্ড ব্রাদার্সের প্রকল্প তদারককারী মুরাদ হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত গৌরনদী উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী আলাউদ্দিনের কাছে ফোনটি ধরিয়ে দেন। দালান নির্মানের কাজ শেষ হওয়ার আগে দেয়াল ধ্বসের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী আলাউদ্দিন জানান, প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.