ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংস্কার, কাজ শেষ হওয়ার আগেই পূনরায় সংস্কার কাজ চলছে

খোকন হাওলাদার || 
অনিয়ম,দূর্নীতি ও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংস্কার কাজ শেষ করার আগেই চলমান অবস্থায় কটকস্থল থেকে খাঞ্জাপুর পর্যন্ত পোনে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরী হয়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত রাস্তার ওই অংশটুকুর মধ্যে ১১টি স্থানের রাস্তা ডেবে গেছে। এতে পুনরায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুরপাল্লার যানবাহন চালকসহ যাত্রীরা। এলাকাবাসির অভিযোগ অনিয়ম, দূর্নীতি ও নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ হস্তান্তর আগের খানাখন্দে পরিনত হয়েছে।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা -বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর আনোয়ারা হাসপাতাল থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত ১১.৮০০ কিলোমিটর সংস্কারের জন্য রাজশাহীর এমএসএএম পিজে ভি লিঃ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অক্টোবর (২০১৬) মাসে কার্যাদেশ দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প রিভাইস এসটিমেট করে ১৮ কোটি থেকে ২২ কোটিতে বৃদ্ধি করেন।

ভূক্তভোগী ও এলাবাসির অভিযোগ করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের এক বছর আগে কাজ শেষ করার কথা থাকলে এখনও শেষ করতে পারেন নাই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সওজের কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দূর্নীতি ও খুবই নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। যে পরিমান বিটুমিন ও পাথর দেয়ার কথা ছিল ঠিকাদার না দিয়ে বেইজে পুরানো রাস্তার মালামাল ব্যবহার করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ করেছেন। ফলে কাজ শেষ করার পূর্বেই চলমান অবস্থায় ডেবে গিয়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কটকস্থল থেকে খাঞ্জাপুর পর্যন্ত পোনে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরী হয়ে হয়েছে। কটকস্থল, তাঁরাকুপি আরিফ ফিলিং ষ্টেশন, বার্থী হাইস্কুল, বার্থী কলেজ, ইল্লার উত্তর পাশ, খাঞ্জাপুর সরদার বাড়ির সামনে, গাইনের পাড়, ইল্লা ফিলিং ষ্টেশন ও খাঞ্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১১টি স্পটে অবস্থা খুবই খারাপ। এই স্থানগুলোতে সদ্য সমাপ্ত কাজের পরে বড় বড় গর্ত সৃষ্ঠি হয়েছে। রাস্তার পিচ ও পাথর উঠে গেছে। এ ছাড়া কাজের অনেক স্থানে পাথর উঠে গিয়ে আলাদা হয়ে গেছে।

এসময় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ভোগান্তির পর রাস্তা সংস্কার হওয়ায় অনেকটা আশাবাদি ছিলাম কিন্তু সংস্কারের পরে দেখলাম নতুন রাস্তা পুরাতনের চেয়েও খারাপ হয়ে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে চালক বেল্লাল আকন, মন্টু বয়াতি, শামচুল হক সরদার, বেলাল বয়াতিসহ অনেকেই বলেন, সড়ক সংস্কারের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে। সওজ ও ঠিকাদার মিলে সরকারি টাকা লুটপাট করেছে। কাজের কিছুই হয়নি। তারা তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে আরো বলেন, কাজ শেষ করতে পারেনি এরই মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে খানাখন্দ। আগামি বর্ষা মৌসুমে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক খালে পরিনত হবে।

অভিযোগ সম্পর্কে মেসার্স এম,এস,এ,এম,পিজে,ভি লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রকল্প তদারকি কাজে নিয়োজিত মোহাম্মদ আলম বলেন, সাব লেয়ার তৈরীতে কিছুটা সমস্যাজনিত কারণে ডেবে খানাকন্দ তৈরী হয়েছে। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার, অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, সমস্যা হলে একেক জনে একেক কথা বলতেই পারে। সমস্যা হয়েছে নতুন করে কাজ করে সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, ঠিকাদারকে ১১ কোটি টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। সে পরিশোধকৃত বিলের চেয়ে অনেক বেশী কাজ করেছে। কাজে ব্যবহৃত বিটুমিনের মান খারাপ ও বৃষ্টির কারণে এ অবস্থা তৈরী হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংশোধন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মস্তফা বলেন, প্রকল্পের ৯২/৯৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ডেবে যাওয়া ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পয়েন্ট আউট করেছি এবং ঠিকাদারের লোকজনকে পুরাটা তুলে রেক্টিফাইড করতে বলা হয়েছে। অনিয়ম দূর্নীতি নয় ঠিকাদারের কিছুটা ভুল ও বিটুমিন জ্বলে যাওয়ায় কারণে এ সম্যস্যা হয়েছে। শীঘ্রই সমাধান করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.