গৌরনদীতে সন্ত্রাসী হামলায় বসতঘর ভাঙচুর, আহত-৫

খোকন হাওলাদার || 
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করার জের ধরে গত রোববার রাতে একদল সন্ত্রাসী স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা বসতঘর ভাঙচুর তছনছ করে। এ সময় স্কুল ছাত্রীর মাসহ স্বজনরা বাঁধা দিলে হামলাকারীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে ৫ জনকে আহত করেছে। গুরুতরভাবে আহত স্কুল ছাত্রীসহ তিন জনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন, আহত ও পুলিশ জানান, পূর্ব শত্রতার জের ধরে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের আমীর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের মো. হাবিব হাওলাদারের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে হাবিব হাওলাদারের বখাটে পুত্র ইউসুফ হোসেন হাওলাদার(২৫) আমীর হোসেনের কন্যা খাঞ্জাপুর পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্রী(১৬)কে স্কুলে আসার যাওয়ার পথে সহযোগী বখাটেদের নিয়ে প্রায়ই উত্যক্ত করত।
স্কুল ছাত্রী শান্তা (১৬) অভিযোগ করে বলেন, গত এক মাস ধরে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে হাবিব হাওলাদারের বখাটে পুত্র ইউসুফ হোসেন হাওলাদার(২৫) ও তার সহযোগী রুহুল আমিন(২৪) আমার পথরোধ করেকু-প্রস্তাব দেয়। আমি তা প্রত্যাখান করায় প্রায় প্রায়ই পথ আটকে বখাটেপনা করে। গত রবিবার সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলের সন্নিকটে পৌছলে সকাল ১০টার দিকে ইউসুফ হোসেন ২/৩ সহযোগীকে নিয়ে আমার পথ আটকে সিদ্বান্তের কথা জানতে চায়। আমি পূর্বের সিদ্বান্ত আছি বললে সঙ্গে সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুরু করে শ্লীলতাহানি ঘটনায়। আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে বিষয়টি আমার বড় ভাই মাসুদ হাওলাদার(২০) ও চাচাতো ভাই বেলাল হোসেন(৩৫)কে জানাই। বড় ভাই মাসুদ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, আমি ও চাচাতো ভাই বেলাল হোসেন দুপুর ১২টার দিকে বখাটে ইউসুফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি বখাটের বাবা হাবিব হাওলাদারের কাছে বিচার দেই। এতে বখাটে ইউসুফ ও তার বাবা হাবিব ক্ষিপ্ত হয়ে বাক- বাকবিতর্কতায় জড়িয়ে পরেন। এক পর্যায়ে আমাদের লাঞ্চিত করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এর জের ধরে রাতে হামলা চালায়।

স্কুল ছাত্রীর মা বুল বুল বেগম(৫৮) অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাত সোয়া ৭টার দিকে বখাটে ইউসুফ হোসেনের নেতৃত্বে তার সহযোগী রুহুল আমিন, ফেরদৌসসহ ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, রামদাসহ ধারাল অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী বসত ঘর কুপিয়ে ভাঙচুর, মালামাল তছনছ ও লুটপাট করেছে। এক পর্যায়ে মেয়েকে টেনে হেচরে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করলে আমিসহ স্বজনরা সন্ত্রাসীদের বাধা দেই। এ সময় আমাকে, মেয়ে শান্তা(১৬), ভাসুরপো দুলাল হাওলাদার(৫০), বেলাল হোসেন(৩৫), রাব্বি(১৬)কে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় ডাকচিৎকার দিলে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসি আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতির্ করে। স্কুল ছাত্রীর বাবা আমীর হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন । অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ইউসুফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে তা বাবা হাবিব হাওলাদার বলেন, পূর্ব শত্রæতার জের ধরে অপদস্ত করতে উত্যক্তের অভিযোগ করেছে এবং নিজেদের ঘর নিজেরাই ভাঙচুর করেছে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সেরনিয়াবাত এ প্রসঙ্গে বলেন, বখাটে ইউসুফ হোসেন অনেক দিন ধরে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে অবহিত করা হয়েছে। মেয়ের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ঘটনা নিন্দনীয় ও বিচার হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.