তিন সিটি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে ২০ দলীয় জোট

বরিশাল, রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সিটি নির্বাচন নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে ২৭ জুন আবারও সভা ডাকা হয়েছে। এদিনের সভায় জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানানো হয়।



এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, গাজীপুরসহ চার সিটি নির্বাচনে জোটগতভাবে কাজ করবে ২০ দল। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকারও সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০ দলের। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বেগবান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, গাজীপুর সিটিসহ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আব্দুল হালিম সিলেটে তাদের মেয়র প্রার্থীর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সিলেট মহানগর শাখার আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে তারা প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। তবে তিনি এও বলেন, মেয়র প্রার্থী করার ক্ষেত্রে জোটের স্বার্থকেই তারা অগ্রাধিকার দেবেন। এর ব্যতিক্রম হবে না। তবে বৈঠকে অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা বলেন, বিএনপির প্রার্থীরাই তিন সিটিতেই বর্তমানে মেয়র পদে আছেন। তাই তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকেই প্রার্থী করার ব্যাপারে তারা মত দেন।

সভায় বরিশাল, রাজশাহী, সিলেটে জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হয় বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তোফা জামাল হায়দার, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের।

এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তোফা ভুঁইয়া, জাগপা সভাপতি রেহেনা প্রধান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বিএমএল সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, লেবার পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অন্য অংশের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইসলামীক ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ রাকিব উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক ডেপুটি মেয়র খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়া বৈঠকে মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

No comments

Powered by Blogger.