বরিশালে ১১ ও ১২ বছরের ৩ শিশু কর্তৃক ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা!

খোকন হাওলাদার || 
বরিশাল নগরে ৮ বছরের এক শিশুকে ১১ ও ১২ বছরের তিন শিশু ধর্ষণ চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে অভিযুক্ত শিশুদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আদালত অভিযুক্তদের তার পিতার জিম্মায় দিয়েছে বলে জানা গেছে। ১ জুন সন্ধ্যায় সিটি কর্পোরেশনের হিরণ নগরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ওই শিশুর পিতা অভিযোগ করেছেন, সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় গেলেও তিনি বিচার পাননি। তিনি জেনেছেন, ধর্ষণচেষ্টাকারীরা জামিন পেয়ে বাইরে বাইরে ঘুরছেন। তিনি বলেন, আমি চাই যারা অপরাধ করেছে তাদের স্থান কারাগারে হোক। বাইরে নয়। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীও এদের পরিবারের কারনে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। যারা আমার মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে তাদের পরিবারের লোকজন আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে আমাকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। সেসবেরও বিচার চান তিনি।
বরিশাল সমাজসেবা অফিসের প্রভেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ মনে করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের অভিযোগগুলো অধিকাংশই মিথ্যা হয়ে থাকে। দেখা যায় জমি বিরোধ, প্রতিবেশির সাথে বিরোধসহ প্রভৃতি কারনে এ ধরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তিনি ৮ বছরের শিশু ১১ বছরের শিশুদের দ্বারা ধর্ষণ চেষ্টা বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অবিশ্বাস্য। তবে শুনেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে সেকারনে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন আদালত।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার এসআই আসাদুর রহমান বলেন, অভিযোগের পরদিনই ‘অপরাধীদের’ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আদালত তাদের জামিন দিয়েছে বলে শুনেছি। কাগজ এখনো হাতে পাইনি। বাংলাদেশে ১১ বছরের শিশুরা ধর্ষণ চেষ্টা চালাতে পারে কিনা বা এই বয়সে তাদের মধ্যে যৌন চাহিদা দেখা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুর বলেন, এ ধরণের ঘটনা আগেও ঘটেছে। আমি তার তদন্ত করেছি। এই ঘটনাটিও সত্য বলে মনে হয়।
৮ বছরের শিশুকে ১১ বছরের শিশু কতৃক ধর্ষণ চেষ্টা চালানোর প্রশ্নে বলেন, আইনে ভিটিমের বয়স উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের বয়স উল্লেখ নেই যে কত বছর বয়সে তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে, এখানে বয়স কোন ফ্যাক্টর না। ওই মেয়ের গায়ের ওপর উঠে যদি জামাকাপড় টানাটানি করে তাহলেও সেটা ধর্ষন চেষ্টা বলে বিবেচ্য। আদালতের অনুমতি ছাড়া থানা সরাসরি এ ধরণের অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার প্রশ্নে বলেন, যে কোন অভিযোগই থানা গ্রহণ করতে পারে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন রাত সোয়া আটটার দিকে অভিযুক্ত রাহুল (১২), রবিউল (১১) ও জাহিদ (১১) ৮ বছরের ওই মেয়েকে ঘরের দক্ষিণ পাশের খোলা বালুর মাঠে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময়ে ওই শিশুর ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩ জুন থানায় এজাহার দাখিল করলে তা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল হায়দার গ্রহণ করেন।
ওদিকে শনিবার (৯ জুন) কথা হয় ধর্ষন চেষ্টার শিকার শিশুটির সাথে। সে জানায়, ওই দিন ওরা (অভিযুক্তরা) জামা-প্যান্ট খোলেনি। তারা একসাথে খেলাধুলা করে চলে এসেছে।
এজাহারের বাদী বয়ান ও ঘটনার শিকার শিশুটির বয়ান আলাদা আলাদা কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সত্য বলে মনে হয়। এর কারণ ওখানের পরিবেশগত। আমি যখন র‌্যাবে ছিলাম তখন ১২ বছরের এক ছেলে অপর এক শিশুকে ধর্ষণ করে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেটা ভিডিও করেছে। তদন্তে আমি ওই ছেলেকে কারন জানতে চাইলে জানায় সে অন্যদের দেখে শিখেছে। আসাদুর রহমান আরও বলেন, বরগুনাতেও আমি এ ধরণের অভিযোগ তদন্ত করেছি। বাদী ও ভিকটিমের আলাদা আলাদা বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, আদালতে মেয়েটি কি বয়ান দিয়েছে তা না দেখে বলতে পারব না।

No comments

Powered by Blogger.