গৌরনদীতে অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই মাদক কারবার: প্রকাশ্যে ডিলাররা

খোকন হাওলাদার, বার্তা ডেস্কঃ 
প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও বরিশালের গৌরনদীতে মাদক সরবরাহ ও বেচাকেনা থামছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝামেলা এড়াতে মাদক কারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করে অভিযানের অজুহাতে মাদকের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঝে মধ্যে থানা পুলিশ মাদকের ভ্রাম্যমান খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করলেও এখনো বড় কোন মাদকের ডিলার গ্রেফতার না হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ স্পটগুলো এখনো মাদকে সয়লাব হয়ে রয়েছে।



বর্তমানে মাদক বিক্রেতারা কৌশলে কঠোর গোপনীয়তায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা করছে। বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে চলছে ¯স্নায়ু যুদ্ধ। শুরুতে গোয়েন্দা বিশেষ শাখার চৌসক অফিসাররা বেশ কিছু বিক্রেতাকে বিপুল পরিমান মাদকসহ আটক করতে সক্ষম হন। ওইসব গ্রেফতারকৃত বিক্রেতাদের নিয়ে স্ব-স্ব থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়েও থানার কতিপয় ওসি’র রোষানলে পরেছেন গোয়েন্দা বিশেষ শাখার অফিসাররা। সূত্রমতে, যেসব বিক্রেতাদের কাছ থেকে থানার ওসি মাসোয়ারা পেতেন তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন গোয়েন্দা শাখার অভিযানে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকে ইয়াবাসহ আটক করেও বিপদে পরতে হয়েছে ওই শাখার কয়েকজন অফিসারকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্ময়হীনতার কারণে সরকারের উচ্চমহল থেকে শুরু করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের চাঁপ থাকলেও অর্দ্যবধি মাদক বিরোধী অভিযানে তেমন কোন সুফল আসেনি। সূত্রে আরও জানা গেছে, সাড়াশি অভিযানের শুরুতে গোয়েন্দা বিশেষ শাখার কঠোর অভিযানের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ইয়াবা ডিলার গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা মানিক মাঝি ও হিরা মাঝি থেকে শুরু করে চিহ্নিত বিক্রেতারা বেশকিছুদিন আত্মগোপনে ছিলো। রহস্যজনক কারণে আগেরমতো এখন আর গোয়েন্দা বিশেষ শাখার অভিযান না চলার কারণে গত কয়েকদিন থেকে আত্মগোপনে থাকা ইয়াবার ডিলার ও বিক্রেতারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে কিছুটা কঠোরতার মাধ্যমে পুরোদমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, “উজিরপুরে পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীর সখ্যতা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিক জহির খানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল। একপর্যায়ে শারমিন বেগম নামের এক গৃহবধূকে ওসি বাধ্য করেছেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষনের চেষ্টার মিথ্যা মামলা দিতে। ওই মামলায় সাংবাদিক জহির খানকে গ্রেফতার করে ওসি জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এছাড়া একইদলের বিশেষ এক রাজনৈতিক নেতার সাথে অভ্যন্তরীন বিরোধের জেরধরে গৌরনদী উপজেলার রাজপথ কাঁপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালেক সরদারকে ইয়াবা বিক্রেতা আখ্যায়িত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। বেজগাতি গ্রামের বাসিন্দা হাসেম সরদারের পুত্র দুর্দীনের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালেক সরদার বলেন, ইয়াবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় ও নিজ দলের এক প্রভাবশালী নেতার সাথে বিরোধের কারণেই জোরপূর্বক আজ আমাকে মাদক বিক্রেতা বানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা গৌরনদীতে ইয়াবা আমদানি করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করছে তারা বর্তমানে বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা করে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কিছুই করতে পারছেন না। অথচ পরিকল্পিতভাবে আমাকে হয়রানী করা হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির সঠিক কোন প্রমান করতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় সর্বোচ্চ সাজা মাথা পেতে নেবো। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তারা বলেছেন, কাউকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে নয়, হয়তো সোর্সের ভুলতথ্যের ভিত্তিতে ২/১জনের বাড়িতে অভিযান চালানো হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা আরও বলেন, স্পট ও তালিকা ধরে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। আবার অনেকেই আত্মগোপন করলেও কেউ গ্রেফতার এড়াতে পারবে না।

No comments

Powered by Blogger.