গৌরনদীতে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও প্রতারক দম্পতি

খোকন হাওলাদার || 
বিদেশে মোটা অংকের বেতনে চাকুরী দেয়া ও গচ্ছিত অর্থে অধিক মুনাফা দেয়ার লোভনীয় ফাঁদে ফেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর গ্রামের এক প্রতারক দম্পত্তি গ্রামের হতদরিদ্র ৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। জমাজমি বিক্রি করে কিংবা ঋৃন নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য দেয় টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভূক্তভোগীরা।
সরেজমিনে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগম কিছু জমি ক্রয় করে গরুর খামার ও একাধিক পুকুর লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেন। পরবর্তিতে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার ব্যবসার সংঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রামের মানুষকে স্ববলম্বী হতে বিভিন্ন নারী কর্মিদের বিনিয়োগের আহবান জানান। নারীদের বিদেশে পাঠানো এবং যারা দেশে থাকতে চায় তাদের গচ্ছিত টাকার অনূকূলে অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখান। লোভে পড়ে গত দুই মাসে গ্রামের ৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ নারী ওই প্রতারক দম্পত্তির হাতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা তুলে দেন। ওই টাকা হাতিয়ে প্রতারক দম্পত্তি গত সোমবার উধাও হয়ে যান।
খাঞ্জাপুর গ্রামের ইব্রাহীম সরদারের স্ত্রী প্রতারিত নুর নাহার বেগম বলেন, ‘দেড় মাস আগে এক দিন সকালে রাসেল ও তার স্ত্রী হাচিনা মোর বাড়িতে আহে। হেরা (রাসেল ও হাচিনা) মোরে এক লাখ টাকায় এক বছরে দ্বিগুন লাভ দেয়ার লোভ দেখায়। মুই লোভে পড়ে মোর সোনাদানা থুইয়া ৬০ হাজার টাহা আইন্না দেই। এ ছাড়া সমিতির (এনজিও) থেকে ২লক্ষ ৮০ হাজার টাহা ঋণ তুইললা মোট ৩ লক্ষ টাহা দেই। মোর টাকা লইয়া পালাইয়া গেছে। একই ভাবে প্রতারিত হওয়ার কথা জানালেন গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী শিপ্লী বেগম, দুলাল মৃধার স্ত্রী রেসমা বেগম, হারুন মৃধার স্ত্রী সেলিনা বেগমসহ ১০ নারী।
একই গ্রামের খলিল হাওলাদারের স্ত্রী তাছলিমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এক বছরে ডাবল পাওয়ার আশায় ‘সোয়ামীরে (স্বামী) না জানাইয়া প্রতারক রাসেল ও হাচিনাকে এনজিও থেকে ঋৃন তুলে ১ লক্ষ টাহা দেই। এ্যাহন হুনি ওরা বাড়িঘর ছাইরা পলাইছে। আইজ মোর সোয়ামী জানতে পাইরা মোরে বাড়িরতন তাড়াইয়া দিছে। টাহা না দিতে পারলে মোরে তালাক দিবে। মোর টাহাও গেছে এ্যাহন স্বামীর ঘর হারাইতেছি। জাহানার বেগম বলেন, মোরো ৫০ হাজার টাহা বেতনে চাকুরীতে বিদেশে পাঠাইবো কইয়া মোর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে গেছে। মুই ধার দেনা কইররা টাহা দিছে। এ্যাহন মুই কই যামু। একইভাবে প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেক নারী। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগমর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলম সেরনিয়াবাত বলেন, গতকাল সোমবার খাঞ্জাপুর গ্রামের প্রতারিত মহিলারা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতারনার বিষয় শুনেছি, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.