রহস্যের ঘূর্নিপাকে দুই মাসেও সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেলালের!





আনিসুর রহমান (দিপু), সাভার প্রতিনিধিঃ



রহস্যের ঘূর্নিপাকে দুই মাসেও সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেলালের! আনিসুর রহমান (দিপু), সাভার প্রতিনিধিঃ ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা থেকে মোঃ হেলালুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যবসায়ী গত দুই মাস যাবত নিখোঁজ। গত ০৭-০৪-২০১৮ইং তারিখে সাভার মডেল থানায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী সেলিনা আক্তার বেবি (৪৫) তার স্বামী ৩১ই মার্চ ২০১৮ইং তারিখে রাত ৮ টার দিকে পাইকারি কাপড় কিনতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং ৪১০) করেন।

 নিখোঁজ মোঃ হেলালুর রহমান সাভার নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ১৯২নং ও ১৯৩ নং দোকানে (সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল) শাড়ী কাপড়ের ব্যবসা করতেন। সাভারের প্রায় সব কাপড়ের মার্কেটগুলোতে পাইকারি কাপড় বিক্রি করতেন। ব্যবসায়ীক মহলের অনেকেই তাকে পাইকার হেলাল নামে চিনে। দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা খুব একটা ভালো যাচ্ছিলোনা হেলালের। এরমধ্যে পরিবার, পাইকার ও ভাড়া দোকানে খুচরা কাপড় ব্যবসার পরিপার্শ্বিকতা সামলাতে গিয়ে নিখোঁজ হেলাল প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ করেছে। ব্যবসায়িক মন্দা মোকাবেলা করতে গিয়ে এনসিসি ব্যাংকের নিকট নিজের বসত বাড়িটিও মর্গেজ রাখতে হয়েছিল তার। এক সময় ভাড়া নেওয়া শাড়ীর দোকানটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সে। গত ৩১ই মার্চ ২০১৮ইং তারিখ থেকে মোঃ হেলালুর রহমানের কোথাও কোন খুঁজ মিলছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলালুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বেবী মুঠোফোনে বলেন- আমার স্বামী ৩১-০৩-২০১৮ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি দোকানের জন্য পাইকারি কাপড় ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। নিখোঁজ হবার পর আমি সাভার নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখি ‘মৌ প্রিন্ট’ নামে একটি সাইনবোর্ড লাগানো। লিটন নামের একজন লোক বলছে আমার স্বামী সব বিক্রি করে গেছে এবং মালিকের সাথে দোকানটির নতুন চুক্তিনামা করে আগামি পাঁচ বছরের জন্য দোকানটি ভাড়া নিয়েছে সে।
এসব দেখে আমার মনে হচ্ছে এই লিটনই আমার স্বামীকে গুম করছে। সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মৌপ্রিয়া শাড়ীর মালিক লিটন নিখোঁজ মোঃ হেলালুর রহমানের দোকানটি (সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল) পুরাতন মালামাল বাবদ ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং এডভান্সের ৫ লাখ টাকা সহ মোট ২১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মোঃ হেলালুর রহমানকে বুঝিয়ে দিয়ে দোকান মালিকের সাথে ১লা মার্চ ২০১৮ইং থেকে ২৮ই ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং তারিখ এর জন্য দোকান ঘড় ভাড়ার নতুন চুক্তিনামা করেছেন। দোকান হস্তান্তর এবং হেলালের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে জানতে মৌপ্রিয়া শাড়ীর মালিক লিটন ভোরের কন্ঠকে মুঠোফোনে জানায়- হেলাল বিভিন্ন দিক থেকে প্রচুর ঋণী হয়ে পারায় বেশ কয়েকমাস যাবত দোকানটি ছাড়ার জন্য চেষ্টা করছিলো। 

হেলালের এক বন্ধুর (সাংবাদিক দুলাল) মারফতে আমার কাছে এসে দোকানের পুরাতন মালামাল সহ হস্তান্তরের কথা বলে। তাদের অনুরোধে আমি দোকান নিতে রাজি হয়েছিলাম কিন্তু পুরাতন কাপড় কিনতে আগ্রহী ছিলাম না।
 হেলাল ও দুলালের কয়েকবারের অনুরোধের পর আমি রাজি হই এবং পুরাতন মালামাল এবং এডভান্সের টাকা বাবদ আমি তাকে ২১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে আমি দোকানটি নিয়েছি। এর বাহিরেও হেলাল আমার কাছে চেক দিয়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছে। ১লা মার্চ থেকে আমি দোকান শুরু করি। দোকান হস্তান্তরের প্রায় দশ-বার দিন পর্যন্ত হেলাল সারাদিন আমার দোকানেই সময় দিতো
 একদিন হঠাৎ বলে লিটন ভাই দয়া করে কয়েক মাস দোকানের নামটা পরিবর্তন কইরেন না, আমার পাওনা পার্টিরা আইসা নাম না দেখলে বিশাল সমস্যায় পরে যাবো। তখন আমার মনে খটকা লাগে এবং তার পরের দিনই আমি আমার আগের দোকানের নামেই সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেই। 
সেই পর থেকে আমার দোকানে আর হেলাল আসেনি। তিনি আরো বলেন- গত সপ্তাহে (১৪/১৫ই মে) ভাবী (হেলালের স্ত্রী) দোকানে এসে বললো, হেলালকে ৩১ই মার্চ থেকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। চার দিকে দেনা করে তাদের সাগরে ভাসিয়ে গেছে। মেয়েটার স্কুলের বেতনটাও দিতে পারছে না। এর আগেও একবার হুট করে ইন্ডিয়া গিয়ে ৪ মাস কাটিয়ে আসছে। 
ভাবী সেদিন এসে মেয়ের স্কুলে লাগবেই বলে ১ হাজার টাকা নিয়ে গেলো। পরের দিন মার্কেটের এক ভাই বললো হেলালের স্ত্রী উনাকে বলছে আমি হেলালকে গুম করে দোকান আত্মসাৎ করেছি। সেদিন বিকেলেই মার্কেটে পুলিশ আসলো! হেলালের ব্যাপারে আর দোকানের ব্যাপারে নানান প্রশ্ন করলো। মার্কেট কমিটি এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সব খুলে বললাম। দোকানের সব কাগজপাতি দেখতে চাইছে, দেখালাম। 
এক কপি করে দিয়েও দিছি। এ ব্যাপারে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাহায্য কামনা করি, যাতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্যটা বেড়িয়ে আসে। হেলাল নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে আমার যদি বিন্দু মাত্র দোষ খুজে পান তাহলে আমি সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি পুলিশ এবং গনমাধ্যমকর্মী ভাইদের বারবার শুধু একটা কথাই বলছি আপনারা সত্যটা খুজে বের করুন।
 সাভার মডেল থানায় করা ৭ই এপ্রিলের জিডি-৪১০ এর দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক সোহেল আল মামুন বলেন- নিখোঁজ হেলালুর রহমান এর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে এবং কি কারনে নিখোঁজ হতে পারে সকল বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.