ভূয়া ভূমিহীনের উৎকোচ প্রক্রিয়ায় আমতলীতে ২৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রবহমান খালের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবী


 মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ঃ
আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা মৌজার হাফুয়া নামে প্রবহমান একটি খালের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবীদীর্ঘ ২৫ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ভূয়া ভূমিহীন বন্দোবস্ত গৃহিতার উৎকোচ প্রক্রিয়ায় এটি বাতিল হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২৫ বছর পূর্বে আমতলী ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা মৌজার মোক্তার আলী হাওলাদারের পুত্র মোঃ হাবিবুর রহমান হলদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া ভূমিহীন সনদ সৃজন পূর্বক পশ্চিম চিলা মৌজার সরকারী খাস খতিয়ানের ১৬৭/১৭৮ নং দাগের প্রবহমান হাফুয়া খালের ১.৫০(দেড় একর) জমি ৫৪-আম/১৯৯৫-৯৬ নং বন্দোবস্ত কেস মূলে বরাদ্দ প্রাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, হাবিবুর রহমান হলদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবতেদায়ীর প্রধান শিক্ষক হিসেবে গত ৬ অক্টোবর ১৯৯১ তারিখ থেকে চাকুরিরত। বন্দোবস্ত বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী উপজেলা ভূমি অফিসে আপত্তি জানান ফলে কবুলিয়াত দলিল রেজিষ্ট্রি স্থগিত হয়। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০০০ তারিখ উৎকোচের বিনিময় ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে ৪৭২ নং কবুলিয়াত রেজিষ্ট্রি করতে এবং ৩ মার্চ ২০০৪ তারিখ ৩৬৬ নং একটি নতুন খতিয়ান সৃজনে সক্ষম হন। এরপর এলাকাবাসী বন্দোবস্ত কেসটি বাতিলের জন্য ৮ মার্চ ২০০৫ তারিখ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সুপারিশসহ একখানা আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত হলে তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় বন্দোবস্ত দাগদ্বয় সম্পূর্ন খাল সেখানে ৫/৬ হাত পানি। খালটি এলাকার ফসলি জমির পানি চলাচলের জন্য একান্ত প্রযোজন।  আরো দেখা যায় বন্দোবস্ত গৃহিতা হাবিবুর রহমান অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে নিজেকে মিথ্যা হলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ভূয়া ভূমিহীন দেখিয়ে বন্দোবস্তর জমি হাছিল করে। প্রতিবেদনে বন্দোবস্ত কেসটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অপর দিকে হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ১১ মার্চ ২০০৭ তারিখ ইউপি কার্যালয়ে সভায় উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে খালটি বন্দোবস্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহনান্তে ইহা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু এই ভাবে দীর্ঘ ২৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও খালটির বন্দোবস্ত আজও বাতিল হয়নি।

No comments

Powered by Blogger.