বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেবিন বুকিংয়ের আবেদন শুরু

খোকন হাওলাদার || 
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের কেবিন বুকিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি তবে বরিশালের লঞ্চ মালিকরা এরই মধ্যে ঘরমুখো মানুষের জন্য কেবিন বুকিংয়ের এর কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) সপ্তম রমজান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত এ কেবিন বুকিং এর আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

স্বচ্ছতার দোহাই দিয়ে গতবছর থেকে অনেকটা আগেভাগেই কেবিন বুকিংয়ের চাহিদাপত্র নেওয়া হলেও যাত্রীরা কবে নাগাদ হাতে টিকিট পাচ্ছেন সে বিষয়ে এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি লঞ্চ মালিকরা।

যদিও এর বাহিরে আগে আসলে আগে পাবেন এ ভিত্তিতেই কিছু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হাতে সরাসরি টিকিট তুলে দিবেন এবারও, তবে সেই টিকেটের জন্য অপেক্ষা করতে আরও বেশ কয়েকদিন।

বরিশালের লঞ্চ কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৪ মে) থেকে কেবিন বুকিং স্লিপ জমা নেওয়া শুরু করেছে ক্রিসেন্ট শিপিং লাইন্সের সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। যা চলবে ১০ রমজান পর্যন্ত।

এদিকে, রোববার (২৭ মে) থেকে শুক্রবার (১ জুন) পর্যন্ত প্রাইম নেভিগেশনের সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিন বুকিংয়ের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন। একই সময়ে নিজাম শিপিং লাইন্সের অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিন বুকিংয়ের আবেদন গ্রহণ করবেন এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি লঞ্চ গুলোর কাউন্টারে টাঙিয়েছে।

আবেদন গুলো বরিশাল ও ঢাকার স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টারে জমা দিতে হবে, আবার ভাগ্যে যদি মেলে তবে কাউন্টার থেকেই টিকিট বুঝে নিতে হবে।

এর বাহিরে কীর্তনখোলা, পারাবাত, টিপু, কালাম খান, কামাল, ফারহানসহ বরিশাল-ঢাকা রুটের বাকি লঞ্চ গুলোর টিকিট আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সরাসরি যাত্রীদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। তবে লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু কবে থেকে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ধরাবাধা কোনো নিয়ম না থাকলেও সরাসরি টিকিট নিতে হলে যাত্রীদের সরাসরি বরিশাল ও ঢাকার স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টারে যেতে হবে। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে লঞ্চে হাজির হয়ে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে কেবিন নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মালিকরা।

সুরভী লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের ইনচার্জ নাইমুল ইসলাম জানান, ঈদে ঢাকা থেকে আসা ও বরিশাল থেকে যাওয়ার কেবিনের টিকিটের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছেন তারা। আবেদন যাচাই-বাছাই করে যাত্রী সাধারণের মধ্যে টিকিট বিতরণ করা হবে। টিকিট বিতরণের তারিখ নির্ধারণ না হলেও যারা টিকিট পাবেন তাদের ফোনে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, পারাবাত লঞ্চ কোম্পানির বরিশালের ইনচার্জ মো. সেলিম আহমেদ জানান, তাদের লঞ্চে কেবিনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে নৌ-মন্ত্রণালয়, মালিক সমিতির ও বিআইডব্লিউটিএ এর যৌথ সভার পরে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক আকিদুল ইসলাম আকেজ জানান, ১০ রমজান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত তাদের লঞ্চের কেবিন বুকিংয়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার (৫ জুন) থেকে যাত্রীদের মধ্যে টিকিট বিতরণ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, কেবিনের চাইতে চাহিদা কয়েকগুণ বেশি থাকায় লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট দিতে হয়। এজন্য সবাই যে টিকিট পান এমনটাও নয়, তবে আমরা চাই সবাই যেন টিকিট পায়।

No comments

Powered by Blogger.