বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে হয়রানির শিকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছির হালাদার


  

   এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৯৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. নাছির হাওলাদার অন্যায়ভাবে হয়রানি শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে ব্যর্থ হয়ে একটি প্রভাবশালী মহল সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর তার বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে। 
/৩/১৮ মোতাবেক প্রশাসনিক বদলির অনুমতি প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিস স্মারক নং-উপ্রশিঅ/মোরেল/প্রশাসনিক বদলি ২০১৮/২১০/৯ মোতাবেক তাকে ২৮৪ নং পূর্ব সমদ্দারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার নন্দী স্বাক্ষরিত চিঠিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে তার বদলির বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে আবদেন করার প্রেক্ষিতে তাকে পুনরায় স্বপদে আগের প্রতিষ্ঠানে বহাল করা হয়। এতেও ক্ষিপ্ত হয় জেলা শিক্ষা অফিসার। আর একারনে ৮ মে আবারো তার ঐ একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: মনির হোসেন ও মো.ফারুকুল ইসলাম।  প্রধান শিক্ষক মো. নাছির হাওলাদার জানান, একটি কুচক্রীমহল অন্যায় ও অবৈধভাবে প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগের করেন। আর এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরও অন্যায় প্রভাব ও তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা নিতে ব্যর্থ হয়ে তাকে উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে বদলির আদেশ দেয়। একই মিথ্যা অভিযাগে বার বার তদন্ত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান। অভিযোগে জানা গেছে, জিউধরা ইউনিয়নের প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান তার পছন্দের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেয়ার জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ কে চাপ সৃষ্টি করে ব্যর্থ হয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। যার কারনে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ অবসর গ্রহনের পর  সহকারী শিক্ষক নাছির হাওলাদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। একইভাবে তাকেও ঐ প্রভাবশালী গং তাদের পছন্দের প্রার্থী নিয়োগে চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এ ব্যাপারে মামলা (জিআর-৩৬৭/১৬)হয়। আর এ থেকেই শুরু হয় দ্বন্ধ। এ দ্বন্ধের জের ধরে প্রধান শিক্ষক নাসির হাওলাদারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের ও একই অভিযোগের দফায় দফায় দাপ্তরিক তদন্ত শুরু হয়। আর এ নিয়োগ কার্যক্রম ও তদন্তে প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে প্রভাবিত হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন অফিসার।
  এসব দ্বন্ধের জের ধরে প্রধান শিক্ষক নাছির উদ্দিনকে জেলা শিক্ষা অফিসারের স্মারক নং-জেপ্রশিঅ/বাগের/২৮৭,তারিখ-২৭
 এতে ক্ষান্ত না হয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রধান শিক্ষক নাছির হাওলাদরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। জেপ্রাষিঅ/বাগের/৫৫৬ স্মারকে জেলা শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার এ মামলার জবাব পত্রপ্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। অন্যাথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান। বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র অভিভাবক জানান, ছাত্র অভিভাবকবিহীন একজনের মিথ্যা অভিযোগে এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বার বার হয়রানি করা উদ্দেশ্যেপ্রনোদিত ছাড়া আর কিছুই হতে পারেনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এসব মিথ্যা অভিযোগ ও রেষারেষির স্থায়ী সমাধান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আশা করছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সহ এলাকাবাসি ।

No comments

Powered by Blogger.