কলাপাড়ায় পচাঁশি বছরের বৃদ্ধা মা খুজে বেড়াচ্ছেন শেষ সমাধিস্থলের যায়গা 




 কলাপাড়া, প্রতিনিধি, ০৮ এপ্রিল। দীর্ঘ পয়ত্রিশটা বছর শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি তিনি।  মৃত্যুর  পরে নিজ ভিটার গোরস্থানে শান্তিতে ঘুমাবার একতিল  জায়গা নাই তার। পাইলে খাই, না পাইলে না খাইয়া থাহি  , পোলা একটা আছে খোজ খবর লয়না। সাড়াদিন সাগরপাড়ে , রাস্তায় খালি বোতল টোকাইয়া বিশ ত্রিশ টাহা যা বেচতে পারি তাই দিয়া চলে। আর না বেচতে পারলে নাই। ঊনি (স্বামী) বাইচা থাকলে আমি শান্তিতে থাকতাম। ঊনি বাইচা নাই, আইজ আমার রাইতে ঘুমাবার জাগাটাও নাই। কথাগুলো বয়সের ভাড়ে  নূয়েপড়া রোগাক্রান্ত  অসহায় বিধবা বৃদ্ধা মা হাজেরা খাতুন’র (৮৫)।


উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের মটবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর  মৃতঃ আজাহার আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন। জীবন জীবিকার তাগিদে তার স্বামী, চার কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে বসবাস করতেন কূয়াকাটার সাগরপারের চরাঞ্চলে।  স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনযুদ্ধে নিভৃতচারীনি  দীর্ঘ বছর ঝিলের শাপলা কুড়িয়ে আর সাগরপারে ঘুরে ঘুরে জেলেদের  ট্রলারে রুটি আর ভাজি বিক্রি করেই চলাতেন টানপোরনের সংসার।  

২০০৭ সালে প্রলঙ্কারী সিডরে হারান কুয়াকাটার মুসুল্লিয়াবাদে রাস্তার পাশে তোলা শেষ আশ্রয়স্থল ঝুপড়ি  ঘরটুকু। তার পর থেকে সম্পূর্নভাবে  আশ্রয়হীন হয়ে দুবেলা দুমুঠো অন্য যোগাতে আর হাপানি রোগের ওষুধ কিনতে বেছে নেন রোজগারের নতুন ঠিকানা। দৃষ্টিনন্দন বেলাভূমিতে পর্যটকদের  ফেলে রাখা ব্যবহৃত পানির বোতল কুড়িয়ে ভাংঙ্গারী দোকানে বিক্রির কাজ। তাও  বয়সের ভারে শরীরে নানান রোগ নিয়ে আগের মত তেমন একটা কুড়াতে পারছেন না। মাঝে মধ্যে পথ ভুলে এদিক সেদিক চলে যান। কথা বলতে কষ্ট হয়। হাতে তুলে খেতে পারেন না। বর্তমানে  তার মেঝো কন্যা হেনারা বেগম’র (৪৭) সী বিচের পারে তোলা ময়লা আবর্জনার স্তুপের পাশে অস্থায়ী পলিথিনের ছাউনির নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।  কন্যা হেনারা বেগম জানান, আমার বাবার কোন ভিটে মাটি ছিলনা। মায় অনেক কষ্ট করে আমাগো বড় করছে। আমার একটা ভাই আছে , কিন্তু মায়ের খোজ নেয়না । কিন্তু মায় নিজের ভিডায় (জমিতে) মরতে চায়। হাজেরা খাতুন জানান, পয়ত্রিশ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পরে আর কখনোই শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি । মাথা গোজার কোন ঠাই না থাকায় তার মৃত্যুর পরে কবরে একটু শান্তিতে ঘুমাতে চান।  কিন্তু  কবরের জায়গা তো দুরের কথা, জীবন্তবস্থায় রাতে ঘুমানোর চিহ্নিত কোন জায়গা নেই। তাই মৃত্যুর আগে একটাই ইচ্ছা অপূর্ন আছে তার নিজের ভিটায় চিরনিদ্রায় শায়ীত হতে চান তিনি। সরকারের কাছে  জায়গা না থাকার বিষয়টি জানানোর কোন মাধ্যম পাননি তিনি, কেউ যেন সরকারের কাছে তার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। 

কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার জানান, বৃদ্ধা হাজেরা খাতুনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জেনেছি, ওনাকে শুধু জমি নয় একটি ঘরের ব্যবস্থাও  করে দেয়া হবে। উনি যেন আমার সাথে যোগাযোগ করে।

No comments

Powered by Blogger.