আগৈলঝাড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া বিদ্যালয় সংস্কার না হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ব্যহত।

খোকন হাওলাদার | 
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিধ্বস্ত হওয়া টিনসেট ঘরটি এখন পর্যন্ত সংস্কার না হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। জানাগেছে, এ বছরের ১৭ এপ্রিল বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে উপজেলার রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি টিনসেট ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও অপর একটি টিনসেট ঘরের অধিকাংশ ক্ষতি সাধিত হয়। কাল বৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া টিনসেট ঘরটিতে ৬ষ্ট শ্রেণীর ২টি শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান দেয়া হত। একই বিদ্যালয়ের মূল ভবনের পূর্ব পাশের টিনসেট ঘরটির টিনের চালাসহ অবকাঠামোর ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার আশংকায় বর্তমানে ওই টিনসেট ঘরের শ্রেণীকক্ষতেও ছাত্র-ছাত্রীদের কোন পাঠদান দেয়া হচ্ছে না। কাল বৈশাখী ঝড়ের পরে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপন করা হলেও এখন পর্যন্ত রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিধ্বস্ত হওয়া টিনসেট ঘর সংস্কার বা পূর্ণনির্মান না হওয়ায় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারনে কিছুদিন বিদ্যালয় মাঠে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দানের ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমানে বৃষ্টির কারনে তা বন্ধ রয়েছে বলে জানাগেছে। প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া বিদ্যালয়ের টিনসেট ঘর সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ওই বিদ্যালয়টিতে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বিজ্ঞান ভবন থাকলেও যেটিতে একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পরে ভবনের ভিতরে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানের জন্য ১০টি শ্রেণীকক্ষের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে আছে মাত্র ৪টি। এ ৪টি শ্রেণীকক্ষের মাধ্যমে কোন রকমে গাদাগাদি করে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কর্মসূচী। যার কারনে অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চরম হতশায় ভুগছেন।

এব্যাপারে রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, এ জনপদের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে সাবেক সচিব ও রাষ্টদূত আঃ মান্নান হাওলাদার ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ের সভাপতি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে তার সাফল্য ধরে রেখেছে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশের হার ৯২.৮ ভাগ। গত ১৭ এপ্রিল বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয়ের একটি টিনসেট ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও অপর একটি টিনসেট ঘরের অধিকাংশ ক্ষতি হয়। যার কারনে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। অতিদ্রুত বিধ্বস্ত হওয়া বিদ্যালয়ের টিনসেট ঘর সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, বিধ্বস্ত হওয়া বিদ্যালয় সম্পর্কে বরিশাল জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে বলে জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.