গুলশানে বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসে কর্মচারীর লাশ


রাজধানীর গুলশানে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিস থেকে শাকিল নামে একজন কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানের নিকেতনের ৩ নম্বর সড়কে ‘টিনসেল টাউন’ নামের বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসের মেঝেতে নিজের বিছানায় তার লাশ পাওয়া যায়। তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসে কাজ করার পাশাপাশি অফিসেই থাকতেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সোমবার রাতের যেকোনো সময় তাকে হত্যা করেছে।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, শাকিলের গলা ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, শাকিল ‘টিনসেল টাউন’ বিজ্ঞাপনী সংস্থায় পিয়ন হিসেবে কর্মরত। রাতে তিনি ওই অফিসেই থাকেন। তার কাছেই অফিসের চাবি থাকে। সকাল থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসও ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় সকালে অফিসে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে তার মোবাইল ফোনটি চালু করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, সকাল থেকে শাকিলের ফোন বন্ধ ছিল। পরে বাবার কাছে শাকিলের ফোন থেকেই অজ্ঞাত লোকজন দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি থানায় জানানো হলে কৌশল অবলম্বন করা হয়। শাকিলের বাবাকে বলা হয় আলোচনা চালিয়ে যেতে। কয়েক দফা আলোচনার পর মুক্তিপণ এক লাখে নেমে আসে। মুক্তিপণের টাকা নেয়ার জন্য নিকেতনে বিজ্ঞাপনী সংস্থার আশপাশে নির্ধারণ করা হয়। মুক্তিপণের টাকা নিতে এলে তাদের ধরার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসের আশপাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে যেতে বারণ করা হয়।

ওসি আরও জানান, দুই-তিনবার স্থান ও সময় নির্ধারণ করার পর কেউ টাকা নিতে আসেনি। পরে সন্ধ্যায় অফিসের দরজা ভেঙে অফিসের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় শাকিলের রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে আছে।

মোশারফ হোসেন নামে শাকিলের এক আত্মীয় যুগান্তরকে জানান, সকাল থেকে শাকিলের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। সকালে তার বাবার কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুত্তিপণ চাওয়া হয়। বিষয়টি শাকিলের বাবা গুলশান থানাকে অবহিত করে। পুলিশের পরামর্শে শাকিলের বাবা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে। আমরা এখনও ধারণা করতে পারছি না শাকিলকে কারা হত্যা করেছে।

No comments

Powered by Blogger.