পটুয়াখালীতে মসজিদের ইমামকে গাছের সাথে বেঁধে ন্যারা করে নির্যাতন।

 শাহ মুহা: সুমন রশিদ মির্জাগঞ্জ থেকে: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে মোঃ আব্দুল গফ্ফার (৩৫) নামের মসজিদের এক ইমামকে গাছের সাথে বেঁধে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন নামধারী ছাত্রলীগের  সভাপতি মোঃ রাসেল (২৮) ও তার সহযোগীরা এ নির্যাতন ঘটিয়েছে।
বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর মুখে মল ঢেলে ও মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।       বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ
মির্জাগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রাতেই খবর পেয়ে নির্যাতিত ইমামকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ
উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মোঃ আনসার, মোঃ জলিল
নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
ইমামের বড় ভাই মোঃ রাজ্জাক বাদী হয়ে রাসেলসহ ৮জনকে আসামী ও অজ্ঞাতদের
বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৭/১৮।
শুক্রবার সকালে আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে
জানায় ওসি।
দৈনিক ভোরের কন্ঠ ডট কমকে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, পূর্ব বিরোধের
জেরে ইমামকে অপহরন করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে
গাছের সাথে বেধে  মধ্যযুগীয় ভাবে নির্যাতন চালায়। পরে তার মুখে মল ঢেলে দিয়ে মাথা মুড়িয়ে
দেয় আসামীরা। ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে
দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পূর্ব
পরিচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে লেনদেন নিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারেও জানান ওসি।
ওসি আরও জানান, উপজেলার কাকড়াবুনিয়ার সোনাপুরা গ্রামের লতিফ হাওলাদারের
ছেলে আব্দুল গফ্ফার পার্শ্ববর্তী বরগুনার বেতাগী উপজেলার মিয়ার হাট
গ্রামের একটি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করতেন। সে অবসর
সময়ে ঝাড়ফুক করে বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসা করতেন। ওই দিন বিকালে ইমাম আব্দুল
গফ্ফারকে ফোন করে একজন অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা (ঝাড়ফুক) দেয়ার কথা বলে
দক্ষিন মির্জাগঞ্জে নিয়ে আসে বর্তমানে নামধারী ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও তার সহযোগীরা।
ওসি জানান, সেখান থেকে তাকে জোর পূর্বক তুলে মোটরসাইকেলে নিয়ে নির্জন
এলাকায় একটি গাছের সাথে বেঁধে রাসেল, আনসার, জলিল ও তাদের সহযোগীরা
অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে টয়লেট থেকে মানুষের মল নিয়ে ইমামের মুখে
ঢেলে দেয়া সহ  মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গাছের সাথে বাধাঁ অবস্থায় ইমাম গফ্ফারকে উদ্ধার করে এবং
ঘটনাস্থল থেকে মো. আনসার ও মো. জলিলকে গ্রেফতার করে বলে জানান ওসি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত ইমাম আব্দুল গফ্ফার সাংবাদিকদের জানান,
আমি মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফে কিছুদিন চাকরি করেছি, তখন থেকে ছাত্রলীগ নেতা
রাসেলের সাথে পরিচয় হয়।
তিনি জানান, আমার কাছে বিশ্বাস করে কিছু রোগী আসত ঝাড় ফুক নেয়ার জন্য।
আমি আল্লাহর কালাম পরে পানি পড়া দিলে ভালো হয়েছে অনেকে। তবে আমি কখনও
মানুষের ক্ষতি করিনি। আমাকে নির্যাতনের সময় ওরা বলেছে আমি নাকি কুফ্ফরি
কালাম দিয়ে মানুষের ক্ষতি করি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবী করেন গফ্ফার।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. রাসেলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা
হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মির্জাগঞ্জে চাকরী করার সুবাধে ওই ইমাম
ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ঝাড়ফুক দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে
আসছিল। এমনকি আমার এক খালা এবং খালাতো বোনের সাথেও চিকিৎসার নামে
প্রতারণা করেছে এবং আপত্তিকর আবদারও করেছে। তাই তাকে গণধোলাই দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইমাম আব্দুল গফ্ফার বিভিন্ন রোগীদের পানি পড়া
এবং ঝাড় ফুক দিয়ে চিকিৎসা করত। ঐদিন বিকালে রাসেলসহ কয়েকজন মিলে ইমাম
আব্দুল গফ্ফারকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। কি কারণে নিয়েছে তা জানাতে
পারেননি তারা।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (সদ্য বিলুপ্ত কমিটির) মো. জহিরুল
ইসলাম জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, রাসেল এক সময় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন
ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। বর্তমানে সে কোন কমিটিতে নেই। তবে সে বিভিন্ন
প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করে।

No comments

Powered by Blogger.