আমতলীতে এসিল্যান্ড অফিসের চেইনম্যানের দুর্নীতি ফাঁস , কে সে ইউসুফ

বরগুনায় ৪১ নামে সরকারী জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে ভূমি অফিসের চেইন ম্যান

0
শাহ মুহা: সুমন রশিদ, সম্পাদকীয় ডেক্স//    বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলী ভূমি অফিসের তৃতীয় শ্রেনীর সাবেক কর্মচারী (চেইনম্যান) মো. রকিবুল ইসলাম মাতুব্বর ওরফে ইউছুফ (বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) অবৈধ ভাবে নিজের ও স্বজনদের নামে একাই ৪১টি ‘ভূমি বন্দোবস্ত’ নিয়েছেন। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় আমতলীর তারিকাটা মৌজায় ২৭ দশমিক ৪০ একর এবং তালতলীর বিভিন্ন মৌজায় ৩০ একর মোট ৫৭ দশমিক ৪০ একর কৃষি জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে দখলে নিয়েছেন ।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নিজের নামে, বাবা, মা, চাচা-চাচী, প্রথম পক্ষের স্ত্রী, ভাই-বেরাদর, শ্বশুর বাড়ীর লোকজনসহ নিকট ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনদের নামে বন্দোবস্তগুলো নেয়া হয়েছে।

রকিবুল ইসলাম মাতুব্বর (ইউছুব)’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে এ ব্যাপারে তারিকাটা গ্রামের মো. জাকির হোসেন ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বন্দোবস্ত গ্রহনে ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে রকিবুল ইসলাম ইউছুব এতো পরিমান জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন।

বর্তমানে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের ভূমি অফিসে কর্মরত সেই চেইন-ম্যান রকিবুল ইসলাম মাতুব্বর ইউছুফ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, ভূমি বন্দোবস্ত নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, চাকুরীতে যোগদানের আগেই তিনি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তার মায়ের নামের উদাহরন টেনে তিনি জানান, মায়ের নিজ নামে কৃষি জমি না থাকায় ভূমিহীন দেখিয়ে মায়ের নামে জমি বন্দোবস্ত নেয়ায় কোন অনিয়ম নেই। বাকীগুলোর ক্ষেত্রেও তাই। তবে জানতে চাওয়া হলে, তার বাবার নামে জমি নেয়ার ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করেননি।

আলাপকালে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ইউছুব মাতুব্বরের পরিবার কখনই ভূমিহীন ছিল না। তবে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাকুরিতে যোগদান করার পর মাত্র ৫ বছরে রকিবুল ইসলাম ইউছুব মাতুব্বর প্রচুর জমি-জমা, ব্যাংক-ব্যালান্স, ৬ তলা ফাউন্ডেশনের বিশাল আয়তনের পাকা বাড়িসহ বিপুল বৃত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন।

আমতলীর সহকারী কমিশিনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার জানিয়েছেন, ১০ শতাংশের কম জমি থাকলে সে ভূমিহীন বলে বিবেচিত হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বন্দোবস্ত স্বামী-স্ত্রী মিলে পেয়ে থাকে। যে কোন একজনের ১০ শতাংশের বেশি জমি থাকলে তারা বন্দোবস্তের সুযোগ পাবে না।

আমতলীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি আগে শোনেননি। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.